টেক্সটাইল পরিচিতি


সূচনা ও পরিচিতি

মানুষের দ্বিতীয় মৌলিক চাহিদা বস্ত্র। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বস্ত্রের চাহিদা বাড়ছে। এই চাহিদা পূরণের জন্য দেশে গড়ে উঠেছে নতুন নতুন বিভিন্ন ধরনের বস্ত্র শিল্প প্রতিষ্ঠান। এসব বস্ত্র শিল্প পরিচালনার জন্য প্রয়োজন দক্ষ বস্ত্র প্রযুক্তিবিদ। বেসরকারী পর্যায়ে এতদিন বাংলাদেশে “ডিপ্লোমা-ইন-টেক্সটা্ইল ইঞ্জিনিয়ারিং” কোর্স চালু ছিল না। বস্ত্র শিল্পে বিরাজমান দক্ষ বস্ত্র প্রযুক্তিবিদ সংকটের কথা অনুধাবন করে দেশের কতিপয় বস্ত্রশিল্প মলিক, দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলী, বস্ত্র প্রযুক্তিবিদ, বস্ত্র ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদগণের বিশেষ উদ্যোগে উপরোল্লিখিত প্রেক্ষিতে উক্ত কোর্স ২০০৩ ইং সনে চালু করার জন্য “বাংলাদেশ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ” টি স্থাপন করার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যা তেজগাঁও শিল্প এলাকার সন্নিকটে। কলেজের সাথে যে কোন স্থান থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল। বাংলাদেশের এ কলেজটি প্রথম বেসরকারী টেক্সটাইল কলেজ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত যাহা বাংলাদেশ সরকার তথা বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত (অনুমোদন নং ২৩৬০, তারিখ ০৩-০৯-০৩ ইং এবং কলেজ কোড নং ৫০১৩০)। ০৪ (চার) বৎসর মেয়াদী “ডিপ্লোমা-ইন-টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং” কোর্স টি ২০০৩-২০০৪ ইং বৎসরে কলেজটিতে চালু করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৮,০০০ (আঠার হাজার) বিদেশী বস্ত্র প্রকৌশলী কর্মরত রয়েছে, সেদিকে খেয়াল রেখেই এই শিল্পকে যুগোপযোগী করার প্রয়াস অতীব প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারী খাতের চেয়ে বেসরকারী খাত অনেকখানী অগ্রগামী। অন্যদিকে বর্তমান পরিস্থিতি অনেক শ্রমবান্ধব ও সাশ্রয়ী। পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম বস্ত্র রপ্তানী দেশে শ্রমমূল্য অতীব বৃদ্ধির কারণে ঐ শিল্প এখন বাংলাদেশের দিকে ধাবিত। ভারতের বেলায়ও একই অবস্থা। সব কিছু মিলিয়ে বলা যায় বস্ত্র শিল্পে বাংলাদেশ অনেক অগ্রগামী ভূমিকা পালন করে যাবে। এক হিসাব থেকে জানা যায় যে, আগামী ৫ বৎসরে এদেশে প্রায় ৪০,০০০(চল্লিশ হাজার) দক্ষ বস্ত্র প্রকৌশলীর প্রয়োজন।

কলেজ ভবন: তেজগাঁও শিল্প এলাকায় মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, ঢাকা, টাঙ্গাইল বাস ষ্ট্যান্ডের উত্তর পার্শ্বে, মহাখালী প্লাজার পিছনে, ক-১৯/১, রসুলবাগে কলেজটির অবস্থান। এখানে ৫ তলা ভবনে ১০,০০০ (দশ হাজার) বর্গফুট জায়গার মধ্যে কলেজটির কার্যক্রম চালু রয়েছে। খুব শীঘ্রই ইষ্টার্ণ হাউজিং-এর আফতাব নগর প্রকল্পে ৬ কাঠা জমিতে কলেজের নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা হবে।

তাত্ত্বিক ক্লাস: ক্লাসরুম অত্যাধুনিক আসবাবপত্র দ্বারা সুসজ্জিত। প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে পৃথক আসনের ব্যবস্থা।

ব্যবহারিক ক্লাস: নিজস্ব সু-সজ্জিত ল্যাব ছাড়াও কলেজটির ব্যবস্থাপনা কমিটির অধিকাংশ সদস্যই বস্ত্র প্রকৌশলী এবং বিভিন্ন ধরনের বস্ত্র শিল্পের মালিক সেহেতু ব্যবহারিক ক্লাসগুলো তাদের শিল্প কারখানা, অন্যান্য মিল কারখানা, অন্যান্য মিল কারখানা, প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য পরীক্ষাগারে হচ্ছে। অধিকাংশ মিল কারখানাগুলি তেজগাঁও, মহাখালিতে অবস্থিত। কমফিট কম্পোজিট, উইনিকম টেক্সটাইল মিলস্‌ লিঃ, স্কয়ার টেক্সটাইল মিলস্ লিঃ, ইয়ূথ স্পিনিং মিলস্ লিঃ আর. কে. গ্রুপ, মন্ডল গ্রুপ, ফকির টেক্সটাইল মিলস্ লিঃ, পলমল গ্রুপ, হামিম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সিনহা টেক্সটাইল গ্রুপ, বি.এ.এস.এফ; সুইচ (সিবা গেইগী), সি এস………., নিউ মেঘনা টেক্সটাইর মিলস্ নামক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ব্যবহারিক বিষয়……… হয়ে আসছে। এছাড়া আরও অত্যাধুনিক মিলে বাস্তব প্রশিক্ষণ, ……… কিছু বিশেষ প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেখানে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ………… এ্যাপারেল এইড লিঃ, মিম গার্মেন্টস, ইষ্টার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ……… তলা) ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে হয়ে আসছে। কম্পিউটা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন …… ব্যবহারিক ক্লাস কলেজ পরীক্ষাগারেই হচ্ছে।

 

কোর্সের নাম ও পরিচিতি:

১) ০৪ (চার) বছর মেয়াদী “ডিপ্লোমা-ইন-টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং”।

২) ০৪ (চার) বছর মেয়াদী “ডিপ্লোমা-ইন-গার্মেন্টস ডিজাইন এন্ড প্যাটার্ন মেকিং টেকনোলজী”।

৩) ০৪ (চার) বছর মেয়াদী “ডিপ্লোমা-ইন-ইলেকট্রিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং”।

৪) ০৪ (চার) বছর মেয়াদী “ডিপ্লোমা-ইন-সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং”।

৫) ০6 (চার) বছর মেয়াদী “এ্যাপারেল মার্চেন্টডাইজিং কোর্স”।

সান্ধ্যকালীন (জানুয়ারী-জুন, জুলাই-ডিসেম্বর)।

প্রধান বিভাগসমূহ:

১) ইয়ার্ন ম্যানুফ্যাকচারিং টেকনোলজী

২) ফ্যাব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং টেকনোলজী

৩) ওয়েট প্রসেসিং টেকনোলজী

৪) গার্মেন্টস ও ক্লোদিং ম্যানুফ্যাকচারিং টেকনোলজী

৫) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং

৬) ইলেকট্রিক্যঅল ইঞ্জিনিয়ারিং

৭) ৬ (ছয়) মাস মেয়াদী এ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং কোর্স (সান্ধ্যকালীন)

কম্পিউটার:

কম্পিউটার বিষয়ে উচ্চ শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা পরিচালিত এবং কলেজে অবস্থিত কম্পিউটার সমূহ দ্বারা হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়।

লাইব্রেরী:

সংশ্লিষ্ট বিষয় সমূহের পর্যাপ্ত সংখ্যক বইপত্র লাইব্রেরীতে রয়েছে। কলেজের নিয়মানুযায়ী বইপত্রাদি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

ভর্তির যোগ্যতা:

এইচ,এস,সি/এস,এস,সি (ভোকেশনাল)/দাখিল/সমমান পরীক্ষায় পাশ হতে হবে। জিপিএ-২.৫ অংকে জিপিএ-২.০/40% প্রাপ্তরা ভর্তির যোগ্য। যে কোন সনের ও বয়সের উল্লেখিত পাশকৃত ছাত্র-ছাত্রীরা ভর্তি হতে পারবে।

পরীক্ষা পদ্ধতি:

কলেজের নিজস্ব ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের নিয়মানুযায়ী পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়ে থাকে।

কোর্স ফি:

০১) ০৪ (চার) বছর মেয়াদী “ডিপ্লোমা-ইন-টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের জন্য প্রযোজ্য

কলেজকে দেয় টাকা

প্রতি সেমিষ্টারের ফি সর্বমোট ৬ মাসের জন্য ২২,৫০০/-

মোট ০৮ সেমিষ্টার (২২,৫০০ ও ৮) = ১,৮০,০০০/-

০২) ০৪ (চার) বছর মেয়াদী গার্মেন্টস ডিজাইন এন্ড প্যাটার্ন মেকিং টেকনোলজী কোর্সের জন্য প্রযোজ্য ফি।

কলেজকে দেয় টাকা

প্রতি সেমিষ্টার ফি সর্বমোট ৬ মাসের জন্য ১৫,০০০ ও ১ + ১১,০০০ ও ৭

মোট ০৮ সেমিষ্টার = ৯২,০০০/-

০৩) সিভিল ও ইলেকট্রিক্যাল ভর্তি ফি (সব সহ)

কলেজকে দেয় টাকা

প্রতি সেমিষ্টার ফি সর্বমোট ৬ মাসের জন্য ১৫,০০০ ও ১ + ১১,০০০ ও ৭

মোট ০৮ সেমিষ্টার = ৯২,০০০/-

০৪) এ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং কোর্স (সন্ধ্যাকালীন)

কলেজকে দেয় টাকা

প্রতি মাসে ৩,০০০/-

প্রতি মাসে ৩,০০০/-

৬ মাসের জন্য সর্বমোট (৩,০০০ * ৬) = ১৮,০০০/-

The authority reserves the right to amend these fees. Students will require to pay registration fees and exam. Fees in each semester exams. & others (as per decision of committee).

শিক্ষা সফর:

সফরগুলো শিক্ষা ও শিল্প বিষয়ক, এতে শিল্প, ঐতিহাসিক, ভৌগলিক, বৈজ্ঞানিক বিষয় থাকছে।

চাকুরীর সম্ভাবনা:

ব্যবস্থাপনা কমিটির অধিকাংশ সদস্যই বস্ত্র শিল্পের সাথে জড়িত। তাছাড়া কমিটির সদস্যগণও বিভিন্ন টেক্সটাইল বিষয়ক শিল্পের সাথে সু-পরিচিত, সেহেতু নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর অন্যান্য সংশ্লিষ্ট স্থানে পাশ করা ছাত্র-ছাত্রীদের চাকুরীর ব্যাপারে বিশেষ সহায়তা দিয়ে থাকেন।

উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ:

“ডিপ্লোমা-ইন-টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং” কোর্স পাশ করার পর ডুয়েট, বি.আই.টি. টাংগাইল, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে বিিএসসি-ইন-টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ (৪৮ মাসের পরিবর্তে ২৭ থেকে ৩০ মাস স্থায়িত্ব) ভর্তির সুযোগ আছে। এছাড়াও এই কলেজ থেকে পাশ করা ছাত্র বিদেশে পড়ার সুযোগও পেয়ে থাকে।

স্বাস্থ্য:

এ কলেজে নিয়মিতভাবে লেখাপড়া করা অবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্যের দিকে বিশেস নজর দেয়া হয়। কলেজটির দক্ষিন পার্শ্বেই রয়েছে মেট্রোপলিটন হাসপাতাল। অল্প খরচে হাসপাতালে …. উপদেশ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।

বিধি-বিধান:

কলেজটিতে লেখা-পড়া করা অবস্থায় প্রতি ছাত্র-ছাত্রী …… আইন কানুন ও কলেজের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। ক্লাসের হাজিরা অবশ্যেই ….. থাকতে হবে। অন্যথায়……. করতে পারবে না।

সনদপত্র:

সংশ্লিষ্ট কোর্স পাশ করার পর ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সনদপত্র প্রদান করে থাকে।